বৈশ্বিক বাণিজ্যের পূর্বাভাস সংশোধন করেছে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা (ডব্লিউটিও)। সংস্থাটির ‘গ্লোবাল ট্রেড আউটলুক অ্যান্ড স্ট্যাটিস্টিকস রিপোর্ট’ অনুসারে, চলতি বছর বৈশ্বিক বাণিজ্য ২ দশমিক ৪ শতাংশ হারে সম্প্রসারণ হতে পারে, যা আগে দেয়া পূর্বাভাসের তুলনায় বেশি। প্রতিবেদন থেকে এ ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে, চলতি বছর বৈশ্বিক বাণিজ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আরোপিত শুল্কের প্রভাব আগের পূর্বাভাসের তুলনায় কম পড়ছে। খবর আনাদোলু।
গত আগস্টে দেয়া পূর্বাভাসে ডব্লিউটিও জানিয়েছিল, চলতি বছরে ২০২৪ সালের তুলনায় বৈশ্বিক বাণিজ্য দশমিক ৯ শতাংশ বাড়বে। নতুন পূর্বাভাসে তা বাড়িয়ে করা হয়েছে ২ দশমিক ৪ শতাংশ। তবে আগামী বছরের জন্য প্রবৃদ্ধির গতি কমার বিষয়ে সতর্ক করেছে ডব্লিউটিও।
প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস সংশোধন প্রসঙ্গে ডব্লিউটিও জানিয়েছে, ২০২৫ সালের প্রথমার্ধে (জানুয়ারি-জুন) কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) সম্পর্কিত পণ্যের ওপর বর্ধিত ব্যয়, শুল্ক বৃদ্ধির আগে উত্তর আমেরিকায় তড়িঘড়ি করে আমদানি বৃদ্ধি এবং বিশ্বের বাকি অংশের মধ্যে শক্তিশালী বাণিজ্যের কারণে বৈশ্বিক পণ্য বাণিজ্য প্রত্যাশা ছাড়িয়ে গেছে।
পূর্বাভাসে বড় ধরনের সংশোধন আনলেও ২০২৪ সালের ২ দশমিক ৮ শতাংশের নিচে থাকবে চলতি বছরের বৈশ্বিক বাণিজ্যে প্রবৃদ্ধি।
ডব্লিউটিওর পূর্বাভাস অনুসারে, ২০২৬ সালের জন্য বৈশ্বিক বাণিজ্য দশমিক ৫ শতাংশ সম্প্রসারণ হতে পারে। যদিও এর আগে ১ দশমিক ৮ শতাংশ বাণিজ্য বৃদ্ধির পূর্বাভাস দেয়া হয়েছিল। নিম্নমুখী এ সংশোধিত পূর্বাভাস অনুযায়ী, দেশ ও খাত অনুসারে বিভিন্ন স্তরে আরোপিত ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্কের প্রভাব চলতি বছরের পরিবর্তে ২০২৬ সালে বেশি প্রকট হয়ে উঠবে।
সংশোধিত পূর্বাভাস প্রসঙ্গে ডব্লিউটিওর মহাপরিচালক এনগোজি ওকোনজো-আইওয়ালা বলছেন, ‘মার্কিন রফতানিতে শুল্ক আরোপের ক্ষেত্রে দেশগুলোর পরিমিত প্রতিক্রিয়া, এআইয়ের সম্ভাবনা এবং বিশেষ করে উন্নয়নশীল দেশগুলোর মধ্যে বর্ধিত বাণিজ্য—এসব বিষয়ই বাণিজ্যিক বিপর্যয়কে প্রশমিত করতে সহায়তা করেছে।’
এর সঙ্গে তিনি আরো যোগ করেন, ২০২৫ সালে বৈশ্বিক বাণিজ্যে স্থিতিশীলতা দেখা যাচ্ছে। এটি অনেকাংশেই সম্ভব হয়েছে নিয়মতান্ত্রিক বহুপক্ষীয় বাণিজ্য ব্যবস্থায় বিদ্যমান স্থিতিশীলতার কারণে।
বৈশ্বিক বাণিজ্যে বিদ্যমান উদ্বেগ নিয়েও সতর্ক করেছেন এনগোজি ওকোনজো-আইওয়ালা। ডব্লিউটিও মহাপরিচালক বলেন, ‘তবে আত্মতুষ্টি কোনো বিকল্প নয়। বৈশ্বিক বাণিজ্য ব্যবস্থার বিঘ্ন আমাদের জন্য এক সতর্কসংকেত। এর অর্থ হলো বৈশ্বিক বাণিজ্য নিয়ে এখন নতুনভাবে ভাবতে হবে দেশগুলোকে। সম্মিলিতভাবে এমন এক শক্তিশালী ভিত্তি গড়ে তুলতে হবে, যা সবার জন্য অধিক সমৃদ্ধি নিশ্চিত করবে।’
দ্বিতীয় দফায় হোয়াইট হাউজে প্রত্যাবর্তনের শুরুতে গত জানুয়ারিতে বৃহৎ কয়েকটি বাণিজ্য অংশীদারের ওপর শুল্ক ঘোষণা করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এরপর একাধিক ধাপে বিশ্বের বেশির ভাগ দেশ ও সুনির্দিষ্ট খাতে বড় আকারের আমদানি শুল্ক কার্যকর করেছে যুক্তরাষ্ট্র।